ঘড়িটা ঠিক দেখা হয়নি। তবে মোটামুটি রাত আড়াইটের কাছাকাছি হবে। পাড়ার
সকলেই অতল ঘুমের দেশে। কি বোর্ড চলছে, হাবিজাবি লিখে চলেছি। একে চ্যাটচেটে
গরম তার ওপর রাতে জেগে থাকাটা আমার বরাবরের স্বভাব। রাতের প্রেমে যারা
একবার পড়েছে তাদের আর কেউ উদ্ধার করতে পারবে না। সঙ্গে মনখারাপ থাকলে তো
কথাই নেই। শুনলে অনেকে বলে, ন্যাকামো ! যা লিখিস সেটা তো দিনের যে কোনো
সময়েই লেখা যায় ! হয়তো যায়, কিন্তু রাত্রি-র সঙ্গে প্রেম তো আর দিবসে চলে
না। বেহাল হয়ে রাতকে অনুভব করতে হয়, ছুঁতে হয়...রাতের অভিমানী গন্ধ
মাখতে হয় শরীরে। বিবশ হতে হতে হৃদয়ের নিয়ন্ত্রণ রাত্রির হাতে চলে গেলে হাল
ছেড়ে দিতে হয়। আর তারপর শব্দগুলো যেন মানে খুঁজে পায়, নিজেরাই লাইন করে
বসে পড়ে দাঁড়ি-কমা-সেমিকোলন গুছিয়ে নিয়ে। রাতের প্রেমে মগ্ন হয়ে শব্দের পর
শব্দ সাজিয়ে নিজেকে নিঃস্ব-রিক্ত করে ফেলাটা নিষিদ্ধ নেশার মতন। রাত বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে যা বাড়তেই থাকে।
লেখাটা মোটেও যুৎসই হচ্ছে না দেখে একটু থামলাম। সিগারেট ধরাবো কিনা ভাবছি, হঠাৎ রাস্তার দিকটায় বেশ জোরে একটা ধাতব শব্দ হওয়ায় উঠতেই হল চেয়ার থেকে। শব্দটা অ্যাক্সিডেন্টের মতোই শোনালো। এত রাতে এই গলিতে আবার কী অ্যাক্সিডেন্ট হল রে বাবা! কৌতুহলে জানলাটা খুলতেই দৃশ্যটা চোখে পড়ল। আমাদের পাড়ার পাহারাদার কিন্তু ঠিক সময়েই দৌড়ে এসেছিল। কিন্তু মাতাল দেখে আজকাল ও আর ডাকাডাকি করে না। চুপচাপ ঘটনাটা বুঝে নিয়ে একটা বড় হাই তুলে আবার নিজের ডেরায় ফিরে গেল। টোটোচালক টলতে টলতে বেশ কয়েকবার সামনের চাকাটাকে ড্রেন থেকে তোলার চেষ্টা করল তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের সিটে বসেই ঘুমিয়ে পড়ল।
হাল ছেড়ে দেওয়ার মত আরামদায়ক ব্যাপার খুব কমই আছে। মনের খচখচানিটা একটু চেপে দিলেই হল। ‘এই তো জীবন, যাক্ না যেদিকে যেতে চায় প্রাণ’... একবার বেহাল হতে পারলেই পৃথিবীটা কত সোজা হয়ে যায়। কখনও কখনও হাল না ছাড়তে না পারাটাই বরং বিশ্রী রকমের চাপ।
লেখাটা মোটেও যুৎসই হচ্ছে না দেখে একটু থামলাম। সিগারেট ধরাবো কিনা ভাবছি, হঠাৎ রাস্তার দিকটায় বেশ জোরে একটা ধাতব শব্দ হওয়ায় উঠতেই হল চেয়ার থেকে। শব্দটা অ্যাক্সিডেন্টের মতোই শোনালো। এত রাতে এই গলিতে আবার কী অ্যাক্সিডেন্ট হল রে বাবা! কৌতুহলে জানলাটা খুলতেই দৃশ্যটা চোখে পড়ল। আমাদের পাড়ার পাহারাদার কিন্তু ঠিক সময়েই দৌড়ে এসেছিল। কিন্তু মাতাল দেখে আজকাল ও আর ডাকাডাকি করে না। চুপচাপ ঘটনাটা বুঝে নিয়ে একটা বড় হাই তুলে আবার নিজের ডেরায় ফিরে গেল। টোটোচালক টলতে টলতে বেশ কয়েকবার সামনের চাকাটাকে ড্রেন থেকে তোলার চেষ্টা করল তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের সিটে বসেই ঘুমিয়ে পড়ল।
হাল ছেড়ে দেওয়ার মত আরামদায়ক ব্যাপার খুব কমই আছে। মনের খচখচানিটা একটু চেপে দিলেই হল। ‘এই তো জীবন, যাক্ না যেদিকে যেতে চায় প্রাণ’... একবার বেহাল হতে পারলেই পৃথিবীটা কত সোজা হয়ে যায়। কখনও কখনও হাল না ছাড়তে না পারাটাই বরং বিশ্রী রকমের চাপ।
